রায়পুরায় মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত 

আগের সংবাদ

প্রেমিকা বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রেমিকের  মৃত্যু

পরের সংবাদ

ধানের পোকা দমনে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি

এস.আর মাহফুজ

প্রভাষক (কৃষি শিক্ষা), নরসিংদী প্রেসিডেন্সি কলেজ প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১ , ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

সময় এখন বোর মৌসুমের পোকামাকড় এর, বোর ধানের ক্ষেতে পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পার্চিং পদ্ধতি। ধানি জমিতে গাছের ডাল, খুঁটি, বাঁশের কঞ্চি ও ধইঞ্চার ডাল পোঁতা হয়। সেগুলোর উপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা বসে ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার এই পদ্ধতিকেই ‘পার্চিং’ বলা হয়।

এই পার্চিং পদ্ধতি ফসলের পোকা দমনের জন্য অত্যন্ত কম ব্যয়বিহীন এবং পরিবেশবান্ধব। এই পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন খরচ ও কীটনাশকের ব্যবহার কমে পাওয়ায় এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন কৃষকদের মাঝে। অনেক কৃষক বোর ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও লাভজনক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

মহামারী করোনার মধ্যেও নরসিংদী জেলার কৃষকরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে তাদের জমিতে বোর ধান রোপণ করেছেন। বর্তমানে তাদের রোপণকৃত ধানগাছগুলো বড় হচ্ছে। এখন সবুজে ছেয়ে গেছে জেলার ফসলের মাঠগুলো। আর এই ধানের গাছ কৃষকদের মনে এনে দিয়েছে প্রশান্তি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন কৃষকরা। এবং বাকিরাও এর আওতায় আসছে দিন দিন।

পার্চিং সাধারণত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং। মরা ডালপালা পুঁতে দিলে তা হবে ডেড পার্চিং আর জীবন্ত ধইঞ্চার ডাল জমিতে পুঁতে দিলে তা হবে লাইভ পার্চিং।

কৃষকরা তাদের বোর ফসলের ক্ষেতকে ক্ষতিকারক পোকা থেকে রক্ষার জন্য বাঁশের আগা, বাঁশের কঞ্চি, গাছের ডাল এবং জীবন্ত ধইঞ্চার ডাল পুঁতে বিভিন্ন পোকামাকড় থেকে ফসল রক্ষা করেছেন। এক বিঘা প্রতি জমিতে তারা প্রায় ৮টি বাঁশের আগা, কঞ্চি, ডাল ও ধইঞ্চার ডাল পুঁতেছেন।

এসব ব্যবহারে শালিক, বুলবুলি, ফিঙ্গেসহ বিভিন্ন ধরনের পোকাখাদক পাখি ক্ষেতের পার্চিংয়ের উপরে বসে। সেখান থেকে উড়ে উড়ে গিয়ে ক্ষতিকারক পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলে। এর ফলে কীটনাশক ছাড়াই পোকার আক্রমণ থেকে ধানগাছগুলো রক্ষা পাচ্ছে। এছাড়া পরিবেশের সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি ধান উৎপাদন বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুন।

মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া বাজারের ফারুক, বাগেরহাট গ্রামের জলিল মিয়া, বকচর গ্রামের মতি মিয়া সহ আরও অনেক কৃষক জানান, এবার তাদের জমিতে বোর ধানের চারাগুলো এখন সবুজ ও সতেজ হয়ে উঠেছে। তারা ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি করেছেন।

বিঘাপ্রতি বোর ধানের ক্ষেতে ৮ টি গাছের ছোট ডাল, বাঁশের কঞ্চি এবং ৫ টি জীবন্ত ধইঞ্চার ডাল পুঁতে দিয়েছেন। ফিঙ্গে, শালিক ও বুলবুলি ওই ডালে বসে খেতের ক্ষতিকর পোকা ধরে খেয়ে ফেলছে। এতে তাদের জমিতে ভালো কাজ হচ্ছে।

বরচাপার জামালপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, এ পদ্ধতির ফলে ফসল উৎপাদনের খরচ কম হচ্ছে এবং কীটনাশকের ব্যবহার অনেক কমে গেছে। এতে তারা খুব উপকার পাচ্ছেন।

এখন পার্চিং পদ্ধতিতে কৃষকদের খরচ কিছুটা হলেও কমছে। এছাড়া এ পদ্ধতি বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখছে। সেইসঙ্গে জমিতে জৈব সার হিসেবে পাখির বিষ্ঠা পড়ে জমির উর্বরতা বাড়ছে।