নরসিংদীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আগের সংবাদ

শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: ড. মঈন খান

মোঃ মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬ , ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার কার্পণ্য করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণ ও ন্যায্য দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক। কাজেই আপনাদের দাবির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।’ তবে জাতীয়করণ হলে শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীতে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বদলি ও প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় যুক্ত হবে। তাই এ দাবির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও শিক্ষকদের বিবেচনায় নিতে হবে।

ড. মঈন খান বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল বেসরকারি। ব্যক্তি ও সমাজের দানশীল মানুষের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় সরকারি সহায়তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।

তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ সরকারিভাবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কমিশন গঠন করে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষকদের সরকারি বেতন-সহায়তা আরও বাড়ানো হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০১ সালে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের শতভাগ সরকারিভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ফলে বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরকারি সহায়তার আওতায় রয়েছেন।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথমে অষ্টম এবং পরবর্তীতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। এর ফলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষকরাই দেশের তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। তাই নিজেদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করে দেশ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতা কিংবা অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে না। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজই একটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করে। বাংলাদেশকে উন্নত ও সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খান ফাউন্ডেশন ও দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার।

আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।