মোঃ ফরহাদ আলম: নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আশরাফ উদ্দিন বকুল। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। আওয়ামীলীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি দীর্ঘ ৩০ বছর পর পুনরুদ্ধার করেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রায়পুরা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা আনুষ্ঠানিক ভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী মোঃ আশরাফ উদ্দিন বকুল তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী তাজুল ইসলামের (রিকশা প্রতীক) চেয়ে ৯১ হাজার ৮৩০ ভোট বেশি পেয়েছেন। তাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৬৮২ ভোট।
নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বদরুজ্জামান উজ্জ্বল (হাতপাখা) ৩২ হাজার ৫৮২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী পনির হোসেন (মাইক) ১৯ হাজার ৭৬৩ ভোট এবং জামাল আহমেদ চৌধুরী (ফুটবল) ৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান (মোমবাতি) ২ হাজার ৩৮০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌফিকুর রাহমান (ঘোড়া) ১ হাজার ২৩৯ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের তাহমিনা আক্তার (আপেল) ১ হাজার ৬৭ ভোট, জাতীয় পার্টির মেহেরুন নেছা খান হেনা (লাঙ্গল) ৪৯৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সোলাইমান খন্দকার (হাঁস) পেয়েছেন ২৯৯ ভোট।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আশরাফ উদ্দিন বকুল ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘এই জয় রায়পুরা উপজেলার সাধারণ জনগণের বিজয়। আগামীতে রায়পুরা হবে উন্নয়নের নগরী।’
জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ২৭০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৫ জন। ১৬৭টি কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৬৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটারের ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ৩৬০টি এবং বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৮০৪টি ভোট।
উল্লেখ্য, এ আসনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আলী মৃধা জয়ী হন। এরপর ১৯৯৬ সালের পর থেকে টানা ৩০ বছর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবারের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ের মাধ্যমে হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করল বিএনপি।