জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের বার্তা নিয়ে পলাশে ‘সুপার ক্যারাভান’

আগের সংবাদ

ফুলেল শ্রদ্ধায় আহমদুল কবির মনু মিয়ার ১০৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত

পরের সংবাদ

জোটে খেইহারা পলাশের নির্বাচনী উত্তাপ, একলা তুষারে বিএনপির পথ সহজ হবে কী

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ , ১০:৫২ অপরাহ্ণ

ব্যাপক নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎই থমকে গেছে পলাশের নির্বাচনী বাতাস। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের বিপরীতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আমজাদ হোসাইন।

কিন্তু জোটের রাজনীতিতে শেষ সময়ে এসে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সরোয়ার তুষারকে মনোনয়ন দেয়ায় জামায়াতের প্রচারণা হোঁচট খায়। কিন্তু জামাতের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় নাটকীয়তা আরো বেড়ে যায়। কারণ জোট গঠনের পর সারাদেশের সব প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও পলাশ ছিল দ্বিতীয় ব্যতিক্রমী আসন।

এরই মধ্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পলাশ ঘুরে গিয়েছেন। কিন্তু প্রথম থেকে প্রচারণায় না থাকায় নির্বাচনী আমেজ জমিয়ে তুলতে পারছেন না সারোয়ার তুষার। একইসঙ্গে সর্বশক্তি নিয়োগ করে প্রচারণায় থাকা জামায়াতও সেভাবে মাঠে নেই। নিভৃতে চলে গেছেন আসনটির প্রার্থী আমজাদ হোসেনও। তাই জোটের সমন্বয়হীনতা প্রকটভাবে সামনে এসেছে।

সারোয়ার তুষারকে প্রতীক তুলে দিচ্ছেন জামায়াতের আমীর

যদিও জামাতের পক্ষ থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়ম না থাকায় সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এদিকে আমজাদ হোসেনের কিছু সমর্থক এখনো শেষসময়ের কিছু একটা ওলট পালটের আশায় ছিলেন। কিন্তু আজ গাজীপুরে জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে সরোয়ার তুষারের হাতে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দিয়ে সেই জল্পনারও অবসান ঘটিয়েছেন। কিন্তু এতকিছুর পরেও জামায়াত কর্মীদের মাঠে নামানো যাবে কিনা- সেটি একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য এবং অবস্থান দেখা গেছে। কেউ কেউ এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়ে কেন্দ্রের প্রতি আঙ্গুল তুলছেন। আবার নেতাদের কেউ কেউ কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মানা হয়নি বলে স্থানীয় জামায়াতকে দোষারোপ করছেন।

জোটের সমন্বয়হীনতা

পলাশে জামায়াতের আসন পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আসনটি এনসিপিকে দেয়া হয়েছে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। আজকেও তিনি এক পোষ্টে প্রশ্ন রেখেছেন ‘এখনো কিংকর্তব্যবিমূঢ়?’ যদি অনেক নেতাকর্মী কমেন্ট করছেন দলীয় জনশক্তি আর সাধারণ সমর্থক এক বিষয় নয়। অর্থাৎ এখন জামায়াতের পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামাটা কতটা সম্ভব পর হবে, সেটিও একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফেসবুক থেকে নেওয়া

এদিকে ভোটের দিন এগিয়ে আসলেও নির্বাচনী প্রচারণায় জোর হাওয়া শুরু করা যায়নি। ফলে সাবেক মন্ত্রী মঈন খানের পথে কোন চ্যালেঞ্জ তৈরি করা যাবে কিনা সেই প্রশ্ন বড় হয়ে সামনে আসছে।

পলাশ কেন প্রতিপক্ষের শক্ত মাঠ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নানা কারণে আলোচনায় ছিল নরসিংদীর অন্যতম সংসদীয় আসন পলাশ। আওয়ামী লীগ নেতাদের পলায়নের পর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মধ্যে নিতে গিয়ে কয়েকবার সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এমনকি পাঁচদোনায় একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। একই সঙ্গে পিএস নির্ভর রাজনীতি নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিভিন্ন শিল্পকারখানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে জনিরোষ বাড়তে থাকে। তাই বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থীর জন্য মাঠ অনেকটা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু শেষ সময়ে এসে জোটের এমন লেজেগোবরা অবস্থায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যাবে কিনা- সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠলেও এখনো সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি মনে মনে করছেন এনসিপি এবং জামায়াত জোটের নেতারা। যদিও তারা কর্মীদের কতটা মাঠে নামাতে পারবে সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। কিন্তু শেষ সময়ে এই আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠার আশা করছেন জোটের নেতারা।

ভোটার কত

পলাশে এবার মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ২১৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৩৫ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ জন। আর হিজড়া ভোটার ৫ জন।