প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে উন্মোচন সাহিত্য পরিষদের ৫ উপকমিটি

আগের সংবাদ

ডাংগায় নৌকা ও গজারিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

পরের সংবাদ

পাট শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও ঘুরে দাঁড়ানোর হাতছানি

নাদিয়া ভূইঁয়া 

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ

জুট বা পাট, বাংলাদেশর সোনালী আশ নামে সুপরিচিত এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫২ সালে বাওয়া জুট মিলস নারায়ণগঞ্জে স্থাপিত বাংলাদেশর প্রথম পাটকল । পরবর্তীতে এই সময়েই একই এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী পাটকলের এবং এর পরপরই কয়েক বছরের মধ্যে গড়ে ওঠে অসংখ্য শিল্প কারখানা।

পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব যখন পলি ব্যাগ কে না করছে আমরা তখন পাটশিল্পর মত একটি শিল্পকে নিজ হাতে খুন করেছি।একসময় পাট বাংলাদেশর সবচেয়ে অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত ছিল। শুধু তাই নয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত ছিল পাট।কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি মৃত প্রায়। বিশ্ব যখন কৃত্রিম তন্তু বাদ দিয়ে পাট ও তুলা কে প্রাধান্য দিচ্ছে আমরা তখন নির্বুদ্ধিতা আর দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে পাটের সুতা আর চট এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছি ।

যখন বৈশ্বিক বাজারে পাট পণ্যের স্বর্ণালি সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে এবং পাট উৎপাদনকারী দেশগুলো সেই সুযোগ লুফে নিচ্ছে, তখন দেশজ পাটকল বন্ধের ঘোষণা আমাদের হতাশ করে। সরকারী পাটকলসমূহের লোকসানের প্রধান কারণ হিসেবে বিজেএমসির অব্যবস্থাপনা, সময়মতো পাট কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাব ও দুর্নীতিকে বিশেষভাবে দায়ী করা হচ্ছে । এছাড়াও নেতৃত্ব ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের অভাব, বৈশ্বিক বাজার দখলে কৌশলগত ত্রুটি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, অদক্ষ ও বেশিসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগের ফলে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই পাটকলগুলোকে। ফলে কলগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সরকার।

দুর্নীতি, অদক্ষতা, অযোগ্যতা, অব্যবস্থাপনার কারনে একের পর এক বন্ধ হতে থাকে পাটকল।শ্রমিক ছাঁটাই, মজুরি না দেওয়ার কারনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন শ্রমিকরা ।

বৈশ্বিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমাদের পাটশিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা খুঁজতে হবে। পরিবেশবান্ধব পাটকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

বহুমখি পাটপণ্যের পাশাপাশি পাটকাঠির ছাই হয়ে উঠছে অন্যতম রপ্তানিযোগ্য পণ্য৷ পাটকাঠি পুড়িয়ে যে অ্যাক্টিভেটেড কার্বন তৈরি হয়, সেগুলো ওষুধ শিল্প, পানি ও বাতাস বিশুদ্ধকরণ শিল্প, আতশবাজির কারখানাসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বময়৷ এমনকি এই পাটকাঠির ছাই জমির উর্বরতা বিশুদ্ধকরণেও কার্যকরী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে৷ এই পাটকাঠির ছাই আমরা বর্তমানে কেবল চীনে রপ্তানি করছি৷ খুড়িয়ে খুড়িয়ে, একটু একটু করে পাটকাঠি দিয়ে যে রপ্তানিযোগ্য পণ্য তৈরি করে চলেছেন আমাদের উদ্যোক্তারা, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সেটার বাজার তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশের বদলে যেতে বেশি সময় লাগবে না৷

দেশে প্রতিবছর আমরা যে পাটকাঠি উত্‍পাদন করি, তার অর্ধেকও যদি পুড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি, তা ফি বছর বাংলাদেশকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা এনে দেবে৷