ধান ক্ষেত থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

আগের সংবাদ

খেলার ছলে শিক্ষা

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান

প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬ , ১২:১৬ অপরাহ্ণ

একটি শিশুর বয়স যখন ৩ বা ৪ হয়, তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দৌড়ঝাঁপ। সেই কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু হয় যুদ্ধের প্রস্তুতি। কাঁধে  গাদা গাদা বইয়ের বস্তা, হাতে পানির বোতল, মাথায় ক্যাপ সব মিলিয়ে যেন যুদ্ধে যাচ্ছে শিশুটি। সাথে তার মা। বিদ্যালয়, কোচিং, ড্রয়িং ক্লাস, স্পোকেন ক্লাস, সাংস্কৃতিক চর্চা আরও কত কী। অবশেষে রাতের কালো আঁধারের কারনে বিরতি ঘটে যুদ্ধের।ক্লান্ত দেহ নিয়ে শিশুটি পড়ে থাকে বিছানায়, ঘুম তো ঘুম নয়, যেন বার বার শিশুটি আঁতকে উঠে ক্লাস কিংবা কোচিং এর পড়ার দু:স্বপ্নে। কী হচ্ছে এসব? তাহলে রবীন্দ্রনাথ যে বলেছিলেন-আনন্দহীন শিক্ষা কোন শিক্ষা নয়। তা হলে এ কোন শিক্ষা? বিজ্ঞানী ভাইগটক্সির মতে- “O In play a child is always above his average age, above his daily behavior in  play, it is as thought; he were a head taller than himselfO”

শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও দজ্ঞতা অর্জনে খেলাও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি বিশ্বাস করতেন, খেলা শিশুর বিকাশের উৎস।

বর্তমান শিক্ষাবিজ্ঞানে খেলার ছলে শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল-পরিবর্তন এসেছে। এমন একদিন ছিল যখন বলা হতো শিক্ষকের হাতের বেত না খেলে শিশু মানুষ হবে না, এমন ধারণা পাল্টে গেছে। শিক্ষা হবে নির্ভয় আর আনন্দচিত্তে। শিশু শিখবে কিন্তু সে বুঝতেই পারবে না যে শিখছে। বর্তমানে Joyful learning concept প্রাথমিক শিক্ষায় বেশ আলোচিত বিষয়। সৃষ্টি হয়েছে প্রাক-প্রাথমিক নামক একটি শ্রেণি। যেখানে আনা হয়েছে খেলার ছলে শিক্ষার বিভিন্ন উপকরণ। চলছে বিভিন্ন ম্যাথডে  শিক্ষা। কেউ ছক্কার গুটি দিয়ে সংখ্যা শিখছে, কেউ বা অক্ষরের বেঞ্চ দিয়ে শিখছে অক্ষরজ্ঞান। কী চমৎকার শিক্ষা!

অপরদিকে শ্রেণিকক্ষে শিখন শেখানো কার্যক্রমে দলীয় কাজের মাধ্যমে শিক্ষা, পোস্টবক্স, জিগস, বিতর্ক, কুইজ ইত্যাদি পদ্ধতি তো রয়েছেই। নতুন পদ্ধতি হিসেবে এসেছে অডিও ভিজুয়্যাল ও ইন্টারনেট। রয়েছে বিভিন্ন প্রজেক্ট পদ্ধতি যেমন, খেলার ছলে শিক্ষার্থীকে বাজারে পাঠানো হলো, এতে তার গানিতিক দক্ষতা অর্জিত হবে। ব্যাঞ্জামিন ট্যাক্সনমির জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের বিভিন্ন উপক্ষেত্রে থাকলেও আমরা এখন ধীরে ধীরে অ্যাফেক্টিভ ও সাইকোমোটর ডোমেইন এর দিকে চলে এসেছি।

চলছে হাতে কলমে শিক্ষা, দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজ। এখন আর বাড়ীর কাজ বলা হয় না, দেয়া হয় প্রজেক্ট। শিশুরা নিজে কাজ করে, অপরকে করতে সাহায্য করে, ভুল করে, নিজেরাই ভুল সংশোধন করে, এভাবে সমৃদ্ধ হয় শিশুর জ্ঞান ভাণ্ডার। হাতে কলমে কাজের মাধ্যমে শিখন ও উদ্দীপকের সঠিক সংযোজন ঘটে। ফলে স্থায়ী হয় শিখন। দুই গুন দুই সমান চার হয়, এখন আর মুখস্থ করা হয়না। বাস্তব উপকরণের সাহায্যে দেখানো হয় দুই গুন দুই চার। ফলে শিখন একদিকে যেমন বাস্তব ভিত্তিক হয় তেমনি শিখন হয় স্থায়ী ও ফলপ্রসু।

লেখক: মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান

সহকারী শিক্ষক, চরসুবুদ্ধি উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়পুরা, নরসিংদী