মনোহরদীতে ইউনিয়নভিত্তিক কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন প্রদান

আগের সংবাদ

মনোহরদীতে সূর্যোদয় কোভিট- চিকিৎসা ও দাফন কমিটির সেবা প্রদান শুরু

পরের সংবাদ

রায়পুরায় নারীকে পেট্টোলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২১ , ১০:৪২ অপরাহ্ণ

নরসিংদীর রায়পুরায় পারভীন আক্তার (৩০) নামে এক নারীকে টিকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর সাবেক দেবরসহ চার স্বজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় রোববার বিকালে ওই নারীর ছোট ভাই আক্রাম হোসেন বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে রায়পুরা থানায় মামলা করেছেন। এর আগে শনিবার রাতে উপজেলার লোচনপুর এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের নিচে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় রবিবার সকালে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করে রায়পুরা থানার পুলিশ। অগ্নিদগ্ধ ওই নারীর শরীরের ৭৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পোড়া নিয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, রায়পুরার মরজাল এলাকার হাফিজ উদ্দিন মুন্সীর ছেলে আলী হোসেন (৩২) এবং তার ভাগনে ও কাজী আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. শাহরিয়ার (১৮)।

পুলিশ ও অগ্নিদগ্ধ নারীর পরিবার জানায়, রায়পুরার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সোবানপুর গ্রামের দানা মিয়ার মেয়ে পারভিন আক্তার (৩০) এর সাথে মরজাল এলাকার প্রবাসী জাকির হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১০ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পারভিন বেগমের স্বামী প্রবাসের থাকার কারণে প্রায় সময়ই শ্বশুর বাড়ীর লোকজন পারভিন বেগম ও তার সন্তানের ওপর কারণে-অকারণে নির্যাতন করতো। বছরখানেক পূর্বে পারভিন বেগমের দেবর আলী হোসেন পারভিনের সন্তানের পায়ে দা দিয়ে কোপ দেয়। নাতনীর পায়ে কোপ দেওয়ার ঘটনায় পারভিনের বাবা দানা মিয়া থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছিল।

এর পর থেকে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন মামলা তুলে নিতে পারভিনের উপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সে স্বামীর বাড়ী ছেড়ে বাবার বাড়ী সোবানপুরে গিয়ে উঠতে বাধ্য হয়। প্রায় ৮ মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। শনিবার দুপুরে টিকা নিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে সন্ধার পর দেবরসহ চারজন তার মুখ বেঁধে লোচনপুর এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের নিচে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে আগুন নেভানোর পর তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ৩ টার দিকে তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় ঘটনায় অভিযুক্ত দেবর আলী হোসেন ও ননদের ছেলে শাহরিয়ারকে আটক করেছে ও বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা: এ.কে.এম. রেজাউল ইসলাম খান জানায়, পারভিন বেগমের শরীরে পায়ের আগুল থেকে গলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। এ অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রেরন করা হয়েছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, দেবর সহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারে চেষ্ঠা চালানো হচ্ছে। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।