রায়পুরায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ সম্পন্ন

আগের সংবাদ

রায়পুরা থানায় দুটি পুলিশ ভ্যান উপহার দিলেন এমপি আশরাফ উদ্দিন বকুল

পরের সংবাদ

রায়পুরায় সড়কের মাটি খননে দেওয়াল ধসে ঠিকাদার নিহত, আহত মা-ছেলে

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬ , ১:৩৩ অপরাহ্ণ

নরসিংদীর রায়পুরায় সড়কের মাটি খননের সময় একটি বাড়ির দেওয়াল ধসে রজত আলী (৪০) নামে এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারী ও তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত মা-ছেলেকে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে উপজেলার ডৌকারচর ইউনিয়নের খাসহাওলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রজত আলী বেলাব উপজেলার ধুকুন্দি এলাকার শাহাজাদ আলীর ছেলে। আহতরা হলেন—ডৌকারচর ইউনিয়নের সুমন মিয়ার স্ত্রী রহিমা (৩৫) ও তাঁর ছেলে রামিম (৪)। ঘটনার তিনদিন আগে রহিমা তাঁর ছেলে রামিমকে নিয়ে ভাই রোকন উদ্দিনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, খাসহাওলা এলাকার কাজল মিয়ার বাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুরা মাদরাসা পর্যন্ত সড়কের মাটি খননের কাজ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে রোকন উদ্দিনের বাড়ির সামনে এস্কেভেটর দিয়ে সড়কের মাটি খনন করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, রোকন উদ্দিন বাড়ির দেওয়াল নির্মাণের সময় এক ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন প্রতিবেশী আমির আলী ও তাঁর ভাতিজা সোবহানের প্ররোচনায় এস্কেভেটরের চালক দেওয়ালের নিচ থেকে মাটি খনন করেন। এ সময় দেওয়ালের নিচ থেকে মাটি না কাটার জন্য নিষেধ করা হলেও তাঁরা খননকাজ চালিয়ে যান।

একপর্যায়ে দেওয়ালটি ধসে পড়ে। এ সময় দেওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঠিকাদার রজত আলী, রহিমা ও তাঁর ছেলে রামিমের ওপর দেওয়ালটি ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই রজত আলী নিহত হন। গুরুতর আহত হন রহিমা ও তাঁর ছেলে রামিম। এতে আহত রহিমার হাঁটু ও কোমর ভেঙে গেছে। তাঁর ছেলে রামিমের মাথা, ঠোঁট ও দাঁত গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। বর্তমানে মা-ছেলে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত রহিমার বোন মিলি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, সোবহানের চাপের কারণেই দেওয়াল ঘেঁষে মাটি খননের কাজ চালানো হয়েছিল। এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পরও সোবহান তাঁদের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন মিলি।

অভিযোগের বিষয়ে সোবহান ও আমির আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ১২ আগস্ট দেওয়াল ধসে রহিমা ও তাঁর ছেলে রামিম আহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী আমির আলী ও তাঁর ভাতিজা সোবহান মিয়ার বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বাড়ির মালিক রোকন উদ্দিন।

রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। বাড়ির মালিক রোকন উদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।