ঘোড়াশাল পৌরসভায় নৌকার মাঝি আল মুজাহিদ তুষার

আগের সংবাদ

রবীন্দ্র সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সেন্ট্রাল কলেজের লাবন্য

পরের সংবাদ

পলাশে বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন জলময়ূর

মোঃ মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া 

প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২১ , ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

পলাশ উপজেলা ঘোড়াশাল পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পদ্মবিল। ভেসে থাকা পদ্ম পাতার ওপর একটা পাখির ছানা দাঁড়িয়ে আছে। পাখির মাথা ও গলা সাদা। ঘাড়টা রেশমি সোনালি হলুদ। পিঠ চকলেট পাটকিলে। ডানার পাশটা ধবধবে সাদা। দেহের তুলনায় লেজ বেশ লম্বা। কাস্তের মতো বাঁকানো। পেটের নিচটা কালচে। এরা শীত মৌসুমে রঙ বদলায়।

চকলেট পাটকিল থেকে ফিকে পাটকিলে বর্ণ ধারণ করে এবং বুকের ওপরে ‘ভি’ আকৃতির কালো নেকলেসের মতো দেখা যায়। শীতে এর আরো কিছু পরিবর্তন নজরে পড়ে। যেমন প্রজনন ঋতুতে এদের লেজটা থাকে লম্বা, কিন্তু এ সময় লেজটা তুলনামূলকভাবে খাটো দেখায়। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম; পার্থক্য শুধু আকারে। স্ত্রী পাখি পুরুষের তুলনায় খানিকটা বড়।

জলময়ূরের প্রধান খাবার শস্যদানা, জলজ ফল ও কীটপতঙ্গ। সাধারণত এদের বিচরণ জলাশয়ে। এরা ডাঙ্গায় কম বিচরণ করে। এখন সে রকমটি আর দেখা যায় না। শিকারিদের অধিক দৌরাত্তেরে কারণে এ প্রজাতির পাখির সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।জলময়ূরের প্রজনন সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর। এ সময় এরা ‘মিই-ও-মিই-ও’ সুরে ডাকাডাকি করে। প্রজনন ঋতুতে জলময়ূরী হণ্যে হয়ে পুরুষ পাখিকে খুঁজতে থাকে। এ সময় অন্য জলময়ূরীর সঙ্গে যে কোনো জলময়ূরের ঘোরাফেরা করতে দেখলে প্রচণ্ড হিংসা হয় এদের।

দুই ময়ূরীর মাঝে ঝগড়া বেঁধে যায়। পরিশেষে জিতে যাওয়া জলময়ূরীর সঙ্গে জলময়ূরের মিলন ঘটে। ঘর বাঁধার সপ্তাহ খানেক পরে জলে ভাসা লতাগুল্মের ওপর বাসা বানিয়ে জলময়ূরী ডিম পেড়ে পালিয়ে যায়। প্রজনন ঋতুতে একেকটি ময়ূরী ৭-৮ বার ঘর বাঁধে এবং ডিম দিতেও দেখা যায়। প্রতিবার ২-৪টি করে ডিম দেয়। ডিমে তা দেয়াও বাচ্চাদের দেখভালের দায়িত্ব পুরুষ পাখিকে নিতে হয়।